![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে চলতি বছরের জুন মাসে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দূরপাল্লার হামলা বেড়ে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরের শহরগুলোও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে। খবর সিএনএন।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের ইউক্রেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে অন্তত ২৯৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে চলতি বছরের শুরু থেকে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৪০০-তে পৌঁছেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি এবং ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, জুনের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিনিপ্রো, ওডেসা ও রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ভবনে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই প্রাণহানির প্রধান কারণ।
জাতিসংঘের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় বেসামরিক হতাহত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের সরকার বলছে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তারা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের সহায়তা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী প্রযুক্তি উৎপাদনের অনুমোদন চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধফ্রন্টের কাছাকাছি এলাকায় স্বল্পপাল্লার ড্রোন হামলাতেই সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ড্যানিয়েল বেল বলেন, এসব ড্রোন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আতঙ্কে পরিণত করেছে। খাবার কিনতে যাওয়া, কুকুর হাঁটানো, সাইকেল চালানো কিংবা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজ করতেও মানুষ নিজেকে লক্ষ্যবস্তু মনে করছে।
জুলাই মাসের প্রথমার্ধেও হামলার তীব্রতা কমেনি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এ সময় অন্তত ২৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক হাজার ৯০৪ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ২ জুলাই কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্যও ছিলেন।
পরিবারটির ঘনিষ্ঠ আলা মেলনিচুক সামাজিক মাধ্যমে জানান, নিহতদের একজন ২৩ বছর বয়সী নিকিতা, যিনি শৈশবে ক্যানসার জয় করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
তিনি লিখেছেন, নিকিতার সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন, পরিবার গড়ার পরিকল্পনা ও অসংখ্য সম্ভাবনা। কিন্তু যুদ্ধ সেই সবকিছু এক মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে।